
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র কোনাশালেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর নিয়ে স্থানীয়ভাবে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও আলোচনা চলছে। ঘড়ুয়া কেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে স্থানীয় একটি পক্ষ ইতোমধ্যে লিখিত আবেদন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে। অন্যদিকে, কোনাশালেশ্বরের বাসিন্দারা কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এটিকে ভোটারদের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কোনাশালেশ্বর গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভা থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক আলী আক্তার উজ জামান চৌধুরী বাবুল
বলেন, ভোটকেন্দ্র কোনো গ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয় নয়; বরং ভোটারদের নিরাপদ ও সহজে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাই কেন্দ্র নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য। তাদের দাবি, অতীতে চারাবই, কোনাশালেশ্বর, দাউদপুর, ঘড়ুয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ভোটারদের জন্য ঘড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র ছিল। পরবর্তীতে অধিকসংখ্যক ভোটারের সুবিধার কথা বিবেচনায় অন্যান্য গ্রামের ভোটকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ওই গ্রামের ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৫ জন। বিপরীতে ঘড়ুয়া গ্রামের ভোটার প্রায় ৫৫৭ জন। ফলে বিপুলসংখ্যক কোনাশালেশ্বরের ভোটারকে দূরের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হলে বয়স্ক, অসুস্থ ও নারী ভোটারদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এছাড়া বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাদাপানি পেরিয়ে দূরের কেন্দ্রে যাতায়াত করা অনেক ভোটারের জন্য কষ্টকর। এ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, কোনাশালেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে—ঘড়ুয়া পক্ষের এমন বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়টি নদী থেকে যথেষ্ট দূরে এবং আশপাশে কয়েক বছর ধরে নদীতে চর জেগে উঠছে। বিদ্যালয়ের পাশে মাদ্রাসা ও শেওলা ইউনিয়নের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য বিদ্যালয়টির পর্যাপ্ত জায়গাও রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
কোনাশালেশ্বরের বাসিন্দারা বলেন, অতীতের কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বিতর্কে যেতে চান না। ঘড়ুয়া ও কোনাশালেশ্বর একই ওয়ার্ডের দুটি গ্রামের বাসিন্দা। তাই কেন্দ্র নিয়ে বিরোধ না বাড়িয়ে দুই গ্রামের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।
তাদের প্রস্তাব, কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দুই গ্রামের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘ভোটকেন্দ্র শান্তি রক্ষা কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে।
এদিকে, ঘড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন, ভোটারদের মতামত গ্রহণ ও গণশুনানির দাবিও জানিয়েছেন তারা।

















