স্টাফ রিপোর্টার:
গাছেরও প্রাণ আছে। আজ থেকে ১২৫ বছর আগে ১৯০১ সালে বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুই প্রথম বিশ্বকে প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন – উদ্ভিদেরও অনুভূতি আছে, তারাও আঘাতে সাড়া দেয়। তার আবিষ্কৃত ‘ক্রেস্কোগ্রাফ’ যন্ত্রে ধরা পড়েছিল গাছের নাড়ির স্পন্দন।
আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, গাছ শুধু প্রাণই নয়, সে ব্যথাও পায়। গাছে পেরেক ঢুকলে সে মানুষের মতো চিৎকার করতে না পারলেও তার শরীর থেকে জেসমোনিক অ্যাসিডের মতো রাসায়নিক সংকেত বের হয়, যা তার কষ্টের প্রমাণ। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘উদ্ভিদের কান্না’। গবেষণায় দেখা গেছে, গাছেরা মাটির নিচে ‘উড ওয়াইড ওয়েব’ বা ছত্রাকের জালের মাধ্যমে একে অপরের সাথে কথা বলে, বিপদের সংকেত পাঠায়।
এদিকে, শহরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে অবৈধ ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ অভিযান পরিচালনা করছে। রাস্তার মোড়, ফুটপাত ও সরকারি স্থাপনা থেকে ঝুলন্ত ব্যানারে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু নজরের আড়ালেই রয়ে গেছে প্রকৃতির এক নীরব আর্তনাদ। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী গাছগুলোর বুকে এক শ্রেণির অবিবেক মানুষ পেরেক ঠুকে লাগিয়ে রেখেছে হরেক রকমের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন ও ক্লিনিকের প্রচারপত্র।
গাছে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড লাগানো বন্ধে সচেতনতার ডাক_
বোবা বৃক্ষ কিছু বলতে পারে না, কিন্তু তার শরীরে গাঁথা প্রতিটি পেরেক থেকে যেন রক্তক্ষরণ হয়। এই নীরব যন্ত্রণা বন্ধে এবার নিজ উদ্যোগে মাঠে নেমেছেন কমলগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, হাতে শাবল নিয়ে গাছের গা থেকে একের পর এক পেরেক তুলে সাইনবোর্ড অপসারণ করছেন তিনি। তার এই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, গাছের কান্ডে পেরেক মারলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পেরেকের ছিদ্র দিয়ে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড় প্রবেশ করে গাছকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। একটি পেরেক একটি গাছের জন্য অনেকটা ইনজেকশনের মতো ক্ষতিকর। তাছাড়া পেরেকবিদ্ধ গাছ ঝড়ে সহজে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
সৈয়দ জামাল হোসেন বলেন, “গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ছায়া দেয়। অথচ আমরা বিজ্ঞাপনের জন্য তার বুকে পেরেক মারি। এটা অমানবিক। প্রশাসন ব্যানার অপসারণ করছে, কিন্তু গাছের পেরেক কেউ তুলছে না। তাই আমি নিজ থেকেই শুরু করেছি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু ব্যানার অপসারণ নয়, গাছে পেরেক মারা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনা উচিত। পৌরসভার উচিত মাইকিং করে এবং জরিমানার বিধান করে এই অমানবিক কাজ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শ্রীমঙ্গল গড়তে প্রশাসনের অভিযানের পাশাপাশি সৈয়দ জামাল হোসেনের মতো এমন উদ্যোগই পারে সাধারণ মানুষের বিবেককে জাগ্রত করতে।
















