Desh Bangla 24 News
রবিবার , ১১ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলামী জীবন
  4. খেলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. প্রবাস
  9. ফিচার
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. ভ্রমণ
  13. মৌলভীবাজার
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল

শ্রীমঙ্গল থানা উড়িয়ে দেয়ার হুমকি যুবদল নেতার

প্রতিবেদক
Desh Bangla 24
অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ছবি- প্রতীকী।

স্টাফ রিপোর্টার

শ্রীমঙ্গলে এক যুবদল নেতা কর্তৃক থানা উড়িয়ে দেয়ার হুমকির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রোববার মোবাইল ফোনে এই হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিও ক্লিপে সিন্দুরখান এলাকার এক ব্যক্তি শ্রীমঙ্গল থানার একজন উপ পরিদর্শককে বলতে শোনা যায়-‘আপনি সিন্দুর খান আসলে ভালো হইবো, আপনাকে আমরা সবাই দেখমু, আইলে আপনাকে দেখাইমু-আপনি নাকি সিন্দুরখানের ডন হইছেন-ডন। আপনি তো মৌমাছির ছাকে হাত দিছেন-আপনি তো প্রচুর টাকা বানাইছেন। মানুষরে ধরে ধরে টাকা নিচ্ছেন। আপনার যে কি হইবো আপনি নিজেই বুঝেন না- আপনি নিজেকে মস্তান মনে করেন। আপনার সাথে যাদের লিংক আছে – টাইম আছে নি আমার ধারে। তোমার এখনও ভাষা রইছে আওয়ামী লীগের- বিএনপির ভাষা এখনো বুঝছেন না -বিএনপি কি জিনিস। আপনি আজকে ফোন ধরিয়েন- আজকে আপনাকে বদলি না করলে আজকে থানা উড়বো আজকে। কালকে আপনারে পাইছি না-আজকে থানা উড়বো- আইতেছি- আজকে আপনারে না পাইলে যদি বিচার না হয় আপনারে যে কই বিদায় করবো ইষ্টিশন ছাড়া।’

হুমকি দেয়া ব্যক্তি সদর উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়ন এলাকার স্থানীয় যুবদল নেতা দেলওয়ার হোসেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের পক্ষে সংগঠনের সমন্বয়ক মোসাব্বির আল মাসুদ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় থানা উড়িয়ে দেয়া ব্যক্তি যুবদল নেতা দেলওয়ার বলে দাবী করেন। শ্রীমঙ্গলে মাদক বিরোধী কর্মকান্ডে সোচ্চার মোসাব্বির আল মাসুদ জানান- উপজেলার সীমান্তবর্তী সিন্দুর খান ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ও এলাকা দিয়ে দেশে মাদক ও অবৈধ ভারতীয় মালামাল প্রবেশ করছে। এনিয়ে স্থানীয় চেয়রম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছেন। ১১৩ জন মাদক কারবারীদের তালিকা তৈরী করে ব্যবস্থা গ্রহনে অনুরোধ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। মোসাব্বির আল মাসুদ দাবী করেন- ওই এলাকায় মাদক বিস্তারের সাথে দেলওয়ারের থানা পুলিশকে দেখে নেয়া হুমকির যোগসাজস রয়েছে। এটাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। একজন মানুষ কোন পর্যায়ে গেলে থানা উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিতে পারে তা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে। পুলিশ কিভাবে নির্ভয়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালাবে-মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে?

নাগরিক পরিষদের এই নেতা অভিযোগ করেন-‘দেলওয়ার যুবদল নেতা। আর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মহিউদ্দিন ঝারু। স্থানীয় সংসদ সদস্য’র কাছের লোক। ফলে ঝারু সাহেব এই ঘটনায় তার জবাবদিহি এড়াতে পারেন না। আগামীতে তার শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার কথা শোনা যায়। এ পরিস্থিতিতে তিনি ভোটারদের কাছে তিনি কি প্রতিশ্রুতি নিয়ে দাঁড়াবেন?’
এষিয়ে যোগাযোগ করা হলে- যুবদল নেতা দেলওয়ার হোসেন দেশবাংলা২৪ কে বলেন, ‘ বিষয়টি আমরা থানায় বসে ওসি সাহেবের মাধ্যমে সমাধান করেছি। সেখানে মশিউর রহমান রিপন, সিন্দুরখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত রবিন ছিলেন। তারা সবাই মিলে এটা শেষ করে দিয়েছেন। থানা উড়িয়ে দেয়ার হুমকি -এটা কি ঠিক করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দেলওয়ার বলেন- না এটা বলা আমার উচিৎ হয়নি।’ একই সাথে তিনি বলেন, ‘গত কযেকদিন আগে এলাকার মারুফ নামে এক ভাইকে এসআই সরাফত মারপিট করে গেছে। অথচ মারুফ মাদক কারবারে জড়িত ছিল না। এই ঘটনায় আমি এসআই সরাফতকে ফোন দিয়েছিলাম।’

জানতে চাইলে সিন্দুরখান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত রবিন বলেন, গত রোববার এনিয়ে আমাকে থানায় ডেকে নেয়া হয়েছিল। আমি সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি।’ মোসাব্বির আল মাসুদ এর ১১৩ জন মাদক কারবারীর তালিকা বিষয়ে রবিন বলেন, ‘ এটা দেশে আইনশৃংখলা বাহিনী আছে, বিজিবি আছে, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, র‌্যাব আছে, তারা দেখবে। তাছাড়া এই তালিকা কিসের ভিত্তিকে প্রনয়ন করা হয়েছে, আদৌ এধরনের স্পর্শকাতর তালিকা আইন শৃংখলা বাহিনী ছাড়া কেউ করতে পারে কিনা-তা আমার জানা নেই’।

এবিষয়ে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে শ্রমিঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, বলেন- ‘এবিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।’ এনিয়ে থানায় বৈঠক হওয়ার কথা উল্লেখ করলে তিনি  বলেন- ‘আমাকে তো বলেনি। বললে কি আর ছেড়ে দিতাম।’ পরে তিনি ‘বিষয়টি দেখছেন’ বলে জানান।

সর্বশেষ - শ্রীমঙ্গল

আপনার জন্য নির্বাচিত