Desh Bangla 24 News
মঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬ |
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলামী জীবন
  4. খেলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. প্রবাস
  9. ফিচার
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. ভ্রমণ
  13. মৌলভীবাজার
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার সহিংস আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

প্রতিবেদক
Desh Bangla 24
নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৫:১১ অপরাহ্ণ

দেশবাংলা ডেস্ক

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনে সোমবারও উত্তাল হয়ে ওঠে দেশের প্রধান পোশাক শিল্পাঞ্চলগুলো। গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকরা এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি, কাভার্ডভ্যান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গাজীপুরে পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন শ্রমিকরা। এ সময় সংঘর্ষে বিজিবি-পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন ১২ জন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় সাভার ও আশুলিয়া। পরিস্থিতি সামলাতে আশুলিয়ায় গতকাল ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ও বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। ফতুল্লায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড চার ঘণ্টা অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরে শ্রমিকরা অবস্থান নিলে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে বিজিবি সদস্য ও সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কালিয়াকৈরে বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন-ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের পরও তাদের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করে আন্দোলনের নামে এমন নাশকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলাকারীরা কেউ সাধারণ শ্রমিক নয়। তাই নাশকতাকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।

সাভার ও আশুলিয়া : বিক্ষোভে ফের উত্তপ্ত সাভার ও আশুলিয়ায় সোমবার শতাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আশুলিয়ার বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুরে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এতে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হন। শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। গতকাল দুই শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩০টি গার্মেন্ট কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।

চলমান এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাভারের সংসদ-সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। শ্রমিকদের অবরোধে মহাসড়কে তীব্র যানজট পরিদর্শনে এসে তিনি আরিচায় অবস্থান নিয়ে বলেন, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ায় গার্মেন্টসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে।

দুপুরের পর হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। তারা শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অস্থিরতার প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসড়কে সমাবেশ করেন। এ সময় ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়।

আশুলিয়ার শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে কাজে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা ছুটি ঘোষণার দাবিতে শারমিন গ্রুপের সামনে অবস্থান নেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করতে হয়। তিনি বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে বিভিন্ন কারখানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

এর আগে একেএইচ গ্রুপের বড় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আগুনে কারখানার নিরাপত্তা বিভাগ পুড়ে গেছে। আমদানি-রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান, শ্রমিকবাহী বাস এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। সকাল ১০টার পর আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর সাভারজুড়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে যানচলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে দফায় দফায় লাঠি চার্জ এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

সর্বশেষ - শ্রীমঙ্গল