
এ বছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৭৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। -দেশবাংলা২৪
স্টাফ রিপোর্টার
শরতের আকাশে উৎসবের আমেজ। আর মাত্র কয়েক দিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চলছে প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার আয়োজন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অন্যদিকে উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৭৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং ভক্ত-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সামনে রেখে চলছে সার্বিক প্রস্তুতি।
হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এরপর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর পূজা শেষে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমাও মণ্ডপের পূজার অন্যতম আকর্ষণ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও আরতির মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো।
এবারের দুর্গোৎসব উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানজট নিয়ন্ত্রণ, স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নাশকতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসব চলাকালে পুলিশের টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি এবং প্রতিমা বিসর্জনস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতা, গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্যও সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।
শ্রীমঙ্গল চা-বাগান, পাহাড় ও বৈচিত্র্যময় জনপদের উপজেলা হিসেবে পরিচিত। এখানে দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উৎসবকে ঘিরে তৈরি হয় সামাজিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির আবহ। তাই ১৭৩টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে আয়োজক, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় মানুষের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সব প্রস্তুতি শেষে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী বন্দনার আনুষ্ঠানিকতা। এখন সবার প্রত্যাশা—নিরাপদ পরিবেশে আনন্দ, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
















