
আজ ২৬ অক্টোবরের আকাশে ঝলমলে পূর্ণিমার চাঁদ, যার আরেক নাম ‘হান্টার্স মুন’। ছবি: জুনায়েদ আজীম চৌধুরী
দেশবাংলা ডেস্ক
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) আকাশে দেখা মিলছে অক্টোবরের পূর্ণিমার চাঁদ, যা পরিচিত ‘হান্টার্স মুন’ (Hunter’s Moon) নামে। ঋতু পরিবর্তনের আবহে চাঁদের এই বিশেষ নাম ও এর পেছনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য প্রকৃতিপ্রেমী ও আকাশ পর্যবেক্ষকদের কাছে বাড়তি আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০টা ১১ মিনিটে চাঁদ পূর্ণিমার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে পূর্ণিমার চাঁদ এক দিনেরও বেশি সময় প্রায় পূর্ণ দেখায়। ফলে সোমবার সন্ধ্যা ও রাতেও আকাশ পরিষ্কার থাকলে চাঁদের উজ্জ্বল রূপ উপভোগ করা যাবে।
কেন নাম হান্টার্স মুন?
‘হান্টার্স মুন’ শব্দটির অর্থ শিকারির চাঁদ। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী ঋতুভিত্তিক নামকরণে শরতের ফসল কাটার পূর্ণিমার পরবর্তী পূর্ণিমাকে হান্টার্স মুন বলা হয়। ফসল কাটা শেষ হলে মাঠের গাছপালা কমে আসত, ফলে বন্য প্রাণী তুলনামূলক সহজে চোখে পড়ত। শীতের প্রস্তুতি হিসেবে খাদ্য সংগ্রহের জন্য শিকারিরা এই সময় চাঁদের আলো কাজে লাগাতেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই নামটির প্রচলন।
সাধারণত সেপ্টেম্বরের বিষুবের কাছাকাছি যে পূর্ণিমা ঘটে, তাকে ‘হারভেস্ট মুন’ বা ফসল তোলার চাঁদ বলা হয়। তার পরের পূর্ণিমাই পরিচিত হান্টার্স মুন হিসেবে। তবে প্রচলিত এই নামের সঙ্গে চাঁদের আকার, রং কিংবা আলোর কোনো বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
চাঁদ কি আজ স্বাভাবিকের চেয়ে বড় দেখাবে?
দিগন্তের কাছাকাছি চাঁদ ওঠার সময় অনেকের কাছেই একে তুলনামূলক বড় ও হলুদাভ-কমলা দেখাতে পারে। এর পেছনে রয়েছে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আলোর বিচ্ছুরণ এবং দিগন্তের কাছে চাঁদের আকার নিয়ে মানুষের দৃষ্টিগত বিভ্রম। বাস্তবে দিগন্তের কাছে থাকলেই চাঁদের প্রকৃত আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় না।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে শহরের কৃত্রিম আলোর প্রভাব থেকে দূরে কিংবা খোলা জায়গা থেকে চাঁদ দেখার অভিজ্ঞতা আরও উপভোগ্য হতে পারে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পর পূর্ব আকাশে চাঁদ ওঠার সময় প্রকৃতির এই দৃশ্য আলোকচিত্রপ্রেমীদের জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
হান্টার্স মুন মূলত প্রকৃতি ও ঋতুচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। তবু শতাব্দী পেরিয়ে আজও পূর্ণিমার এই চাঁদ মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—মহাকাশের নিয়মিত ঘটনাও ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে তৈরি করতে পারে এক অনন্য বিস্ময়।
















