
বিবদমান ধানি জমি (বায়ে) থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র (ডানে)। -ছবি দেশবাংলা।
স্টাফ রিপোর্টার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যা মালেকা বেগমের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য পার্থ চক্রবর্তী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমি বন্ধক ও বিক্রির বায়নাসূত্রে টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন ওই ইউপি সদস্যা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা পার্থ চক্রবর্তী জীবিকার প্রয়োজনে প্রায় চার বছর আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেট শহরে বসবাস শুরু করেন। পেশায় ফ্রিল্যান্সার পার্থ সিলেটে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী ইউপি সদস্যা মালেকা বেগমকে তাঁর জমিজমা দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান। এরপর থেকে মালেকা বেগম ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পার্থ চক্রবর্তীর অভিযোগ, জমি দেখাশোনার সুযোগ নিয়ে একপর্যায়ে মালেকা বেগম জমির দখল দাবি করতে শুরু করেন। বর্তমানে তাঁরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছেন না। জমি বন্ধক ও বিক্রির বায়না বাবদ পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার দাবি করে মালেকা বেগম জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। টাকা না দিলে জমি ছেড়ে দেবেন না বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পার্থ। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
সোমবার দুপুরে পার্থ চক্রবর্তী বলেন, “আমরা এখন নিজেদের জমিতে যেতে পারছি না। মালেকা বেগম দাবি করছেন, তাঁর কাছে জমি বন্ধক ও বিক্রির বায়না দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছি। টাকা না দিলে জমি ছাড়বেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন।” এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্যা মালেকা বেগম বলেন, পার্থ চক্রবর্তী ও তাঁর কাকাতো ভাই রাজীব চক্রবর্তীর কাছ থেকে পৃথক দুটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তিনি জমি বন্ধক ও বিক্রির বায়না বাবদ মোট পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন।
মালেকা বেগমের ভাষ্য, ২০২৩ সালের ২৮ মে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ৩১ শতাংশ কৃষিজমি বন্ধক নেন তিনি। পরে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকায় আট শতাংশ জমি বিক্রির বায়না চুক্তি সম্পাদন করা হয়। তিন মাসের মধ্যে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন তাঁরা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তামিম হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে থানায় তলব করা হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং অভিযোগপত্র ও ইউপি সদস্যার দাখিল করা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।














