
স্টাফ রিপোর্টার
যুক্তরাজ্যে কাজের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে জাল কজ লেটার পাঠিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক নাঈমুর রহমান নয়ন নামে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বিরুদ্ধে।
পাওনা ফেরত পেতে দুটি চেক ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।
জানা গেছে প্রতারণার শিকার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার দক্ষিণ মুলাইম এলাকার আব্দুল আজিজ এর ছেলে তৌফিক বিন আব্দুল আজিজ পুর্ব পরিচয়ের সুত্রে বিগত ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকার আব্দুস শহিদ এর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাঈমুর রহমান নয়ন সঙ্গে যুক্তরাজ্যে কাজের ভিসা সংগ্রহের জন্য ২২ হাজার ৭শ’ পাউন্ডের চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী তৌফিক বিন আব্দুল আজিজ ব্যাংক ও নগদে অর্থ পরিশোধ করেন। কিছুদিন পর নাঈমুর রহমান নয়ন যুক্তরাজ্য থেকে একটি কজ লেটার (সার্টিফিকেট অব স্পন্সরশীপ) পাঠান। পরবর্তীতে তৌফিক নাঈমুর এর পাঠানো কজ লেটার নিয়ে ঢাকাস্থ যুক্তরাজ্যের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে গেলে কজ লেটারটি জাল বলে জানানো হয়। এঘটনায় তৌফিক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ ঝুকির মুখে পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েন।
তৌফিকের দাবি, ‘বিষয়টি জানালে নাঈমুর ভুল স্বীকার করে অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তাঁর যুক্তরাজ্যে বসবাসরত চাচা আব্দুর রহিমের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ১৮ হাজার ২০০ পাউন্ড অদ্যাবধি পরিশোধ করেনি। এনিয়ে টাকা ফেরত দিতে চাপ দেয়া হলে নাঈমুর রহমান গত ২৪ মার্চ ৭ নং চাঁদনী ঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ আলী ও বর্ষিজোড়া ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমানের মধ্যস্ততায় বকেয়া অর্থ পরিশোধের লিখিত অঙ্গীকার করেন। নাঈমুর বয়েকা অর্থ পরিশোধে পুবালী ব্যাংকের চৌমুহনা শাখার ছয়টি চেক দেন। প্রতি ৩ মাস পর পর মোট ৬ দফায় সমুদয় অর্থ ফেরত দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৬ টা চেকের মধ্যে প্রথম দুটি চেক ২০২৬ সালের ৫ জুলাই ও ৫ অক্টোবর ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে সেগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়। এই দুই চেকের অর্থ মুল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা’ বলে তৌফিক জানান।
এ পর্যায়ে তৌফিক মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ও নোটারি পাবলিক মো. নুরুল ইসলামের মাধ্যমে নাঈমুর রহমান নয়ন এর বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
তৌফিক এর পিতা আব্দুল আজিজ বলেন, ছেলেটাকে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে সরল বিশ্বাসে পরিবারের অর্জিত সব টাকা পয়সা নাঈমুরের হাতে তুলে দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে এখন পথে বসার অবস্থা। তিনি বলেন, প্রতারক নাঈম এর বাবা জজ কোর্টের পেশকার ছিলেন। দুর্নীতির দায়ে তার চাকরি যায়। ছেলে বাবা মিলে বিদেশে মানুষ পাঠানোর নামে সহজ সরল মানুষদের সাথে প্রতারণা করে অঢেল বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন। সরকারি চাকুরির সুবাদে আব্দুস সহিদ শহরের সমশেরনগর সড়কে আলিসান বাড়ি ও নামে- বেনামে দেশে -বিদেশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
অভিযুক্ত নাঈমুর রহমান নয়ন এর সাথে হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদকের সাংবাদিকতার পরিচয় জানতে চান। তাকে পরিচয় নিশ্চিত করার পর তিনি আর কোন মন্তব্য করেননি। টেক্সট করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তৌফিক ন্যায়বিচার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।















