
বাগান বিলাস
শামীম আরা ইসলাম
সেদিন রোপিনু তারে পরম আহ্লাদে,
ভেবেছিল সবে—এ তো মর্তের প্রণয়;
কালের নিয়মে গাছ শুকাল বিষাদে,
কহিল সকলে—”তার হয়েছে বিলয়।”
জানে না তাহারা, ওই মৃত্যুর আড়ালে
লুকায়ে রয়েছে এক অনন্ত জাগর;
নিঃশব্দ শাখার শিরে কালের কপালে
আঁকা আছে অবিনাশী আলোর অক্ষর।
ফুটেছিল ডালে ডালে তিনটি বরন,
ফুল নহে, ঐশী তিন গোপন ইশারা;
প্রথম রক্তিম দল প্রেমের দহন,
জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে, তবু আত্মহারা।
‘ইশক’-এর বাণী সে যে কহিল অধীরে,
মাশুকের অনলে দহি প্রেমিকের প্রাণ;
অস্তিত্ব মিশিয়া যায় ভস্মের তিমিরে,
তবু তার ওষ্ঠে জাগে মিলনের গান।
দ্বিতীয়, শুভ্র যে দল—’ফানা’র বসন,
মেলিয়া ধরিল সে যে নীরব গম্ভীরে;
অহংকার, ‘আমি’-ত্ব, সব আভরণ
বিসর্জিতে হয় সেই শূন্যের গভীরে।
তৃতীয়, বেগুনি আভা—’বাকা’র সাধনা,
পরম সত্যের সেই অন্তিম প্রকাশ;
সর্বস্ব হারালে মেলে স্রষ্টার করুণা,
চিরন্তন আলোকে তার নিত্য নিবাস।
আজি সে বাগান নাই নয়নের কাছে,
বাস্তবের রূঢ় করে সমূলে উৎখাত;
তবু সুফি জানে—হারানোর মাঝে আছে
পূর্ণতার অমলিন গোপন সওগাত।#
লৌকিক বিনাশ-পারে অদৃশ্য কাননে
শাখা মেলিয়াছে আজ সেই তরুবর;
চোখ নহে, পৌঁছে সেথা হৃদয়ের টানে,
পরমাত্মার উদ্যানে সে অনন্ত অমর।

















