Desh Bangla 24 News
শুক্রবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলামী জীবন
  4. খেলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. প্রবাস
  9. ফিচার
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. ভ্রমণ
  13. মৌলভীবাজার
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল

শ্রীমঙ্গলে শান্তিপুর্ণ দুর্গোৎসব, সম্প্রীতির মিলনমেলা

প্রতিবেদক
Desh Bangla 24
অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

পুজা মন্ডপ পরিদর্শন করছেন মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী। ছবি দেশবাংলা

 

স্টাফ রিপোর্টার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে ১৭৩টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গত ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী থেকে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উৎসব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয়দের মতে, এবারের দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত করতে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। উৎসবের শুরু থেকেই তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দুই উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, পুরোহিত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সম্প্রীতি সভায় অংশ নেন।

ছবি দেশবাংলা 

২০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ

দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন। গত ৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। সভায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উৎসবের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বিএম তৌহিদ হাসান জানান, ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈনের নেতৃত্বে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ১০৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ‘শারদীয় অ্যাপ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মণ্ডপ পরিদর্শন

দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার সফর করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নবিষয়ক সভায় তিনি জেলার সার্বিক উন্নয়নে মৌলভীবাজারকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। সভায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকি ও বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রীমঙ্গল সফর করেন। এদিন তিনি শহরের শাপলাবাগের স্বরলিপি সংঘ, শ্রী শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালীবাড়ি ও রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি কমলগঞ্জের মাধবপুর শিববাজার পূজামণ্ডপও পরিদর্শন করেন।

সাগরদিঘিতে প্রতিমা বিসর্জন

বিজয়া দশমীতে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘিতে প্রতিমা বিসর্জন ছিল দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। উৎসবের শেষ দিনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

শহরের যানজট নিরসন, প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। ফলে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শহরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

শ্রীমঙ্গলের উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের বাসিন্দা উত্তম দেব বলেন, “এবার আমরা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করেছি। এটাই আমাদের বড় অর্জন।”

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ শ্রীমঙ্গলের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ - শ্রীমঙ্গল