আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ার একটি বিখ্যাত গুহায় পাওয়া জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে প্রাগৈতিহাসিক যুগের অজানা এক বিশাল পাখির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আধুনিক মুরগির আত্মীয় এই পাখিটির ওজন ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৯ কেজি। নতুন প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেগাপোডিয়াস রোকুসি’ (Megapodius rokusi)।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের লিয়াং বুয়া (Liang Bua) গুহায় পাওয়া একটি পায়ের হাড়ের অংশ থেকে পাখিটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। এই গুহা এর আগে ক্ষুদ্রাকৃতির প্রাচীন মানবপ্রজাতি ‘হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস’-এর জীবাশ্ম আবিষ্কারের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল। প্রাচীন মানুষটির জনপ্রিয় নাম ‘হবিট’।
গবেষকদের মতে, নতুন শনাক্ত হওয়া পাখিটি মেগাপোড বা ভূমিতে বসবাসকারী এক ধরনের পাখিগোষ্ঠীর সদস্য। এদের শরীর ও গঠন মুরগির মতো হলেও পা তুলনামূলক শক্তিশালী এবং পায়ের পাতা বড়। সাধারণত এরা মাটিতে ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটানোর জন্য শরীরের তাপের পরিবর্তে মাটি বা আশপাশের পরিবেশের উষ্ণতা ব্যবহার করে।
বর্তমানে ফ্লোরেস দ্বীপে বসবাসকারী একই গোত্রের মেগাপোড পাখির ওজন সাধারণত আধা কেজি থেকে ১ দশমিক ২ কেজির মধ্যে। কিন্তু নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিটির ওজন ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৯ কেজি। ফলে আকারের দিক থেকে এটি বর্তমানের পরিচিত প্রজাতিগুলোর চেয়ে অনেক বড় ছিল।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এটি ওয়ালাসিয়া অঞ্চলে শনাক্ত হওয়া প্রথম জীবাশ্ম মেগাপোড প্রজাতি। এ অঞ্চলটি এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত। আবিষ্কারটি প্রমাণ করে, অতীতে এই অঞ্চলে পাখিগোষ্ঠীটির বৈচিত্র্য বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
Alcheringa জার্নালে গত ২২ অক্টোব
প্রকাশিত গবেষণা জার্নাল এর গবেষকেরা ধারণা করছেন, পাখিটির বড় আকারের ডিম প্রাচীন মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তবে হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস এই পাখির ডিম খেত—এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি নতুন পাখির পরিচয়ই প্রকাশ করেনি; বরং প্রাগৈতিহাসিক সময়ে দ্বীপাঞ্চলের প্রাণীবৈচিত্র্য ও পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ধারণার সুযোগ তৈরি করেছে।
সূত্র: Alcheringa জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা, ২২ অক্টোবর ২০২৬; Associated গবেষণাপত্র।

















