Desh Bangla 24 News
শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ইসলামী জীবন
  4. খেলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. তথ্যপ্রযুক্তি
  8. প্রবাস
  9. ফিচার
  10. বানিজ্য
  11. বিনোদন
  12. ভ্রমণ
  13. মৌলভীবাজার
  14. রাজনীতি
  15. লাইফস্টাইল

বালুর নিচে কারা?

প্রতিবেদক
Desh Bangla 24
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ

প্রশাসনের অভিযান – তবুও থামানো যাচ্ছে না বালু উত্তোলন। ছবি : দেশবাংলা২৪

আবুজার বাবলা, শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলে বালুর নিচে কারা? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চিহ্নিত শতাধিক কারবারির নাম।
২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মহিউদ্দিন ঝারু দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর শ্রীমঙ্গলে বালুর পেছনে কারা আছেন তা নিয়ে ফের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এর আগে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা যুবদলের এই নেতার বালুর টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপরই গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইতোপূর্বে সতর্ক করার পরও পুনরায় দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকার মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মহিউদ্দিন ঝারুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল বহন করবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত ব্যক্তির সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
আলোচিত যুবদল আহবায়ক
মহিউদ্দিন ঝারু’র বহিষ্কারাদেশ নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ এক নেতা বলেছেন, ‘এটা একটা সিগন্যাল, তারেক জিয়ার সরকারে দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে বেপরোয়া কোন কিছু করলে পার পাওয়া যাবে- সুযোগ নেই। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।’

একইদিন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শ্রীমঙ্গলে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জোরেসোরে আলোচিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেন।

বালুর পেছনে তাহলে কারা?
চা-বাগান, পাহাড় ও ছড়ায় ঘেরা পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গল। প্রকৃতির এই জনপদে ফের আলোচনায় ভূপ্রকৃতি বিনাশী অবৈধ বালুর কারবারীরা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা জুড়ে কৃষিজমি খনন করে জমির তলদেশ থেকে বালু তুলে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না চিহ্নিত ভুমি দস্যুদের । কোথাও ড্রেজার বা এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বালু তোলা হচ্ছে, কোথাও রাতের আঁধারে ছড়া থেকে বালু তুলে ভারী ড্রাম ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের অভিযান, মামলা, বালু জব্দ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড- থামাছে না এ অপতৎপরতা। বরং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নানা অভিযান, আটক ও দন্ড দেয়ার পরেও কেন পরিস্থিতির পাল্টাচ্ছে না? মাঠ পর্যায়ে তার খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে বালু কারবারিতে চিহ্নিত বালু ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকদের সংশ্লিষ্টতা থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ৫ আগষ্টের পুর্বে আওয়ামীলীগ পরিচয়ে নির্বিচারে কৃষি জমি ধ্বংস করে বালু উত্তোলন চলেছে।
২৪ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে ভুপ্রকৃতি বিনাশ করে বালু উত্তোলন ঠিক থাকলেও কেবল দখল হাত বদল হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক অভিযান, আটক, মামলা বা তাৎক্ষণিক কোর্ট বসিয়ে দন্ড দেয়ার মতো পদক্ষেপ কার্যকর কোন ভুমিকা রাখতে পারছে না।
ভুনবীর মির্জাপুর এলাকার বাবুল মিয়া। অবৈধ বালুর উত্তোলনে জড়িতদের বিষয়ে বলেন- অনেক সাংবাদিক পরিচয়ে বালু ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেন- এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। সেই সাথে ভুমি অফিসের কিছু অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজস রয়েছে। তার মতে- ভু প্রকৃতি বিনাশ করে নির্বিচারে মুল্যবান সম্পদ লুটপাটের শাস্তি তুলনামূলক লঘু। এদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় বালু খেকোদের আটকানো সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, শ্রীমঙ্গলে ২৬টি বালুমহালের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি লিজের আওতায় রয়েছে; আইনি জটিলতার কারণে বাকিগুলোর কার্যক্রম আটকে আছে। অথচ বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া, নদী ও কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ বন্ধ হচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও পৌরসভার শতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

গত ২ মে ভূনবীর ও মির্জাপুর এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভূনবীর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিমেল পাল।
মামলার আসামিরা হলেন—ফেরদৌস মিয়া, আহাদ মিয়া, আহাদ মিয়া, কাওছার মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, ফয়েজ মিয়া, মোচ্ছাব্বির মিয়া, মাসুক মিয়া, লোকমান মিয়া, মো. আব্দুল্লাহ, মকবুল মিয়া, কদর আলী, নানু মিয়া, দুদু মিয়া, সামছু মিয়া, বেলাল মিয়া, আছলম মিয়া, কবির মোল্লা, লতিফ মিয়া ও আজাদ মিয়া। তাদের অধিকাংশের বাড়ি ভূনবীর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। কবির মোল্লাকে স্থানীয়য়া এলাকার হাজার হাজার কৃষি জমি বিনষ্টের মুল কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শ্রীমঙ্গলের অবৈধ বালু উত্তোলনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো এই কৃষি জমির তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন।

সাম্প্রতিক সময়ে ভুনবির মির্জপুর এই দুই ইউনিয়নে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনে ফেরদৌস, নানু, কাউছার, ফয়েজ, কবির মোল্লা, দুদু, কদর আলী ও আসলমসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।
ইউনিয়ন দুটি ঘুরে দেখা গেছে
কৃষিজমির ওপরের মাটি সরিয়ে নিচের স্তর থেকে বালু তুলে নেয়ার ফলে বিভিন্ন জাগায় বিশাল আকারের গর্তের সৃষ্টি করেছে। ফলে কৃষিজমির স্বাভাবিক গঠন বদলে সাথে সাথে পাশের জমির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ভবিষ্যৎ কৃষি উৎপাদনও ঝুঁকিতে পড়ছে।
ভূনবীর, মির্জাপুর, সিন্দুরখান, সায়ইটুলা, আশিদ্রোন, সহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি খনন করে জমির তলদেশ থেকে বালু তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে আবাদি জমির স্বাভাবিক গঠন ও উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য চাপ। এছাড়া বালু পরিবহনে ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের ফলে গ্রামীণ কাঁচা পাকা সড়কনঅবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

অলি মিয়া (২৭) — জালালিয়া রোডের বাসিন্দা। ১৮ জুলাই ২০২৬ ভুরভুরিয়া ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের সময় হাতেনাতে আটক হন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন এ কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

ছাতির মিয়া (৩৫) — ১৭ আগস্ট ২০২৬ ৫ নম্বর পুল এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় আটক হন এবং ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড পান। একই অভিযানে রূপশপুরের চিড়িয়াখানা রোডে অন্য বালু উত্তোলনকারীরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে

হেকিম মিয়া- চক্রের মূলহোতা:
শ্রীমঙ্গলের সাইটুলা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় হেকিম মিয়ার নামও সামনে এসেছে একাধিকবার। সম্প্রতি ওই এলাকায় এক অভিযানে বালুভর্তি ডায়না ট্রাক ও উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করার ঘটনায় হেকিম মিয়াকে আসামি করে মামলা হয়। কিন্তু থেমে না থেকে বালুর মাঠে এখনো সক্রিয় হেকিম।

অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলে, অপরাধীদের
ধরা হচ্ছে, শাস্তিও হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে আটক ও কারাদণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বালু উত্তোলন থামেনি।

১৮ জুলাই ভুরভুরিয়া ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের সময় অলি মিয়া (২৭)-কে হাতেনাতে আটক করে উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এরপর ১৭ আগস্ট উপজেলার ৫ নম্বর পুল এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ছাতির মিয়া (৩৫)-কে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

২০২৫ সালের আগস্টে শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক শামীম আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল হাসানকে ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয়রা আটক করার খবর প্রকাশিত হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে বালু জব্দ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁরা বালু উত্তোলন করছিলেন। তবে শামীম আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তা মেরামতের জন্য বালু তোলা হয়েছিল এবং রাশেদুল হাসান সাংগঠনিক কাজে তাঁর কাছে এসেছিলেন বলে জানিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এতে উপজেলা প্রশাসনের বালু জব্দ আর সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

এদিকে সরু গ্রামীণ সড়কে অতিরিক্ত ওজনের বালু বাহি ট্রাক চলাচল করলে রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্টের পিচ উঠে যাওয়া, গর্ত সৃষ্টি, সড়কের প্রান্ত ভেঙে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এছাড়াও গ্রামীণ সরু সড়কে বালু বাহি ভারী ড্রাম ট্রাক দিনে রাতে দ্রুত গতিতে চলাচল করার সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটছে। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বরের শহরের হবিগঞ্জ রোডের সুরমাভ্যালী এলাকায় বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুল মান্নান (৪০) নামে এক ইজিবাইকচালক নিহত হন। পুলিশ ড্রাম ট্রাকটি জব্দ করে এবং চালক জোনায়েদ (২৬) ও হেলপার রানা মিয়াকে (৩০) আটক করে।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দ্রুতগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে বছরে ৬৫ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে বিলাসছড়া বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন সেলিম মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারণে তিনি তার বৈধ ঘাট থেকে বালু উত্তোলন করতে বাঁধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি অবৈধ চক্র বাঁধা দেয়ার পাশাপাশি গায়ের জোরে তাঁর ইজারাকৃত এলাকাতেও রাতের আঁধারে বালু তুলছে বলে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের বেশীরভাগ সময় শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু ব্যবসার একছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুব আলীর নেতৃত্ব সিন্ডিকেটের দখলে। আরেক ডাকসাইটে আওয়ামী লীগ নেতা ফুল মিয়া মহলদার ছিলেন এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। সিন্দুরখান, সাতগাঁও, ভুনবীট, মির্জাপুর ও সদর ইউনিয়নের ৮০-৮৫ টি পয়েন্ট বালু উত্তোলন করা হয়েছে। বালু কারবারীরা এক শ্রেণির সাংবাদিক, ভুমি অফিসের কতিপয় কর্মচারী, ও পুলিশের কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করে মুল্যবান সিলিকা বালু লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে।

ভিমসি গ্রামের কলেজ ছাত্র কাউছার মিয়া বলেন, ‘বৈধ ইজারা ও রাজস্বের বাইরে বালু উত্তোলন হলে সরকার সরাসরি রাজস্ব হারায়। অন্যদিকে অবৈধ উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক- অবকাঠামো, কৃষিজমি ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই ব্যয় করতে হয়।

সচেতন নাগরিক কমিটি (টিআইবি) শ্রীমঙ্গলের সদস্য সৈয়দ ছায়েদ আহমদ বলেন, ‘ যুবদলের একজন নেতাকে বহিষ্কারের এই ঘটনা নিঃসন্দেহে দল এবং নাগরিকদের জন্য ইতিবাচক ঘটনা। ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের কেউ জড়িত থাকলে তাদের জন্য এটা একটা বার্তাও।’ তিনি বলেন, ‘ বালুর সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে হবে, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজে অনেক সৎ দায়িত্বশীল মানুষ আছে। আমাদের ভু- প্রকৃতি, জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় এই বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে তাঁদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

 

সর্বশেষ - শ্রীমঙ্গল

আপনার জন্য নির্বাচিত