
শ্রীমঙ্গলে বিজিবি কর্তৃক উদ্ধার ভারতীয় চোরাই পন্য। ছবি-দেশবাংলা
স্টাফ রিপোর্টার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস ও আমদানিনিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। দুটি অভিযানে কোটি কোটি টাকার পণ্য উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও, এসব চালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য কীভাবে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত পৌঁছাল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং পণ্যগুলোর প্রকৃত উৎস কোথায়—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
পাশাপাশি অভিযানের বিবরণ, উদ্ধার করা পণ্যের পরিমাণ, জব্দমূল্য ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে আসছে কি না, তা নিয়েও স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে।
রেলস্টেশনে প্রায় ৩ কোটি টাকার শাড়ি-কসমেটিকস
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার বিকেল ৩টার দিকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৩ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস জব্দ করে।
অভিযানে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি), অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ৪৬ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মাহবুবুল হক। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।
বিজিবির সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় পণ্য পরিবহনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। জব্দ করা মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে পণ্যের বিস্তারিত তালিকা, পৃথকভাবে শাড়ি ও কসমেটিকসের পরিমাণ এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
২৪ অক্টোবর। একইদিনগত রাতে শ্রীমঙ্গলের রাজাপুর-কাকিয়াবাজার এলাকায় পৃথক অভিযানে ২০ হাজার ৪৩০ প্যাকেট আমদানিনিষিদ্ধ ভারতীয় সিগারেট উদ্ধারের তথ্য সামনে আসে। বিজিবি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযানটি পরিচালনা করে।
বিজিবির বিলম্বিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধার করা সিগারেটের জব্দমূল্য ৪০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিগারেটগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে কোনো মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, দুটি অভিযানের জব্দমূল্য মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ৮৬ হাজার টাকার পণ্যের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটি প্রাথমিক হিসাব; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও মূল্যায়ন পরবর্তী চূড়ান্ত ও সমন্বিত জব্দমূল্য জানা যাবে।
পণ্যের মালিক কারা, উৎস কোথায়? এ প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। দুটি অভিযানে সাড়ে তিন কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য উদ্ধারের ঘটনা নিসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, পণ্যের উৎস অনুসন্ধান এবং চালানগুলোর গন্তব্য নির্ধারণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে না আসায় নানা আলোচনা চাউর হয়েছে। বিশেষ করে রেলস্টেশন এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ হওয়ার ঘটনা চোরাচালানের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উদ্ধার অভিযানের তথ্য সমন্বিতভাবে প্রকাশ করা হলে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
এ বিষয়ে ৪৬ বিজিবি, এসআরবি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পৃথক অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, জব্দতালিকা, মামলার অগ্রগতি ও আটক সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
















