
বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা বাগান থেকে সাপ উদ্ধার! করা হয়। – দেশবাংলা২৪
স্টাফ রিপোর্টার
আজ বুধবার সকালে ফের শ্রীমঙ্গলের চা বাগান থেকে সাপ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার ভুরভুরিয়া চা বাগান থেকে সাপটি উদ্ধার করেন শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব।
এর আগেও শহরের বাজার, বাড়ির সিলিং, উঠোন আঙ্গিনা, পুকুর থেকে সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বনে খাদ্যের অভাবে সাপ লোকালয়ে যাতায়াত বাড়ছে। তবে এই দাবীর বিষয়ে অনেকে দ্বিমত পোষন করেন। এদের দাবী- বন, জলাভূমি আর চা বাগান – পাহাড় ঘেরা শ্রীমঙ্গলের জনবসতি। ফলে সাপ সহ বন্যপ্রাণীরা স্বাভাবিক চলাচলের পথে লোকালয় অতিক্রম করতে পারে। এতে করে প্রায় প্রতিদিনই শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে সাপ দেখা আর উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। লোকালয়ে সাপ দেখলেই আতঙ্কে লোকজন বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেবকে সাহায্যর জন্য ফোন দেন। তিনি দলবল নিয়ে এসে সাপ ধরে নিয়ে যান। পরে কখনো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর, কখনো নিজেদের হেফাজতে রেখে সেবা- শুশ্রূষার জন্য। পরে বনে অবমুক্ত করা হয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, চা বাগান, জঙ্গল, বন তো সাপেরই আবাসস্থল। বনের আশেপাশে বিস্তীর্ণ চা বাগান থেকেই যদি সাপ ধরা হয়, তাহলে সেটা ‘উদ্ধার’ হলো কীভাবে? এটা কি সাপের আবাসস্থল থেকে জোরপূর্বক অপহরণ নয়?
চা বাগান কোনো জনবসতি নয়। এটি বন সংলগ্ন ইকো-সিস্টেমের অংশ। সেখানে সাপ থাকা স্বাভাবিক। বাসা-বাড়ি বা বাজার থেকে সাপ সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে ছাড়া মানবিক, কিন্তু বন ও বাগান থেকে ধরে এনে লোকালয়ে প্রদর্শন বা নিজের কাছে রেখে পরে বনে ছাড়ার ঘোষণা—এটি সংরক্ষণ নয়, বরং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে হস্তক্ষেপ।
আইন কী বলে?
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এবং নতুন অধ্যাদেশ ২০২৬ অনুযায়ী, দেশের সব ধরনের বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, আটক, পরিবহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাপ তফসিলভুক্ত সংরক্ষিত প্রাণী।
প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-সজল দেব’রাই যদি সাপ ধরেন আর ছেড়ে দেন তাহলে বন বিভাগের কাজ কি?
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবকরা বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে বন বিভাগে জমা দিলেই কেবল তারা বিষয়টি জেনে থাকেন। এর বাহিরে তাদের কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।
সাপ বাঁচানো মহৎ কাজ, কিন্তু আইন না মেনে করলে সেটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নামে বন্যপ্রাণী হয়রানি হয়ে যায়। যোগাযোগ করা হলে-
এবিষয়ে সজল দেব বলেন, ‘আজ (৭ অক্টোবর) সকালে চা শ্রমিকরা পাতা তুলতে গিয়ে গাছে বিষাক্ত একটি সাপ দেখে ম্যানেজারকে খবর দেয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি সাপটি উদ্ধার করে বন বিভাগে হস্তান্তর করেন।’ সজল দেব বলেন, “সাপটি কামড়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে শ্রমিকরা সাপটি মেরে ফেলার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আমরা তা করিনি।”

















